চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে উল্ল্যেখযোগ্য গতি, প্রবৃদ্ধি ১২% পর্যন্ত

চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি থেকে অক্টোবর) কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে উল্ল্যেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই সময়ে বিগত বছরের তুলনায় কনটেইনার, কার্গো এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে যথাক্রমে ৪.৮৭ শতাংশ, ১২.৬৪ শতাংশ এবং ১০.৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
১০ মাসের হ্যান্ডলিংয়ের চিত্র (জানুয়ারি-অক্টোবর):
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে মোট হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ নিম্নরূপ:
কনটেইনার হ্যান্ডলিং: ২৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪২ টিইইউএস (বিগত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩২৮ টিইইউএস বেশি)।
কার্গো হ্যান্ডলিং: ১১ কোটি ৫০ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন (বিগত বছরের চেয়ে ১ কোটি ২৯ লাখ ৮ হাজার ১৭৪ মেট্রিক টন বেশি)।
জাহাজ হ্যান্ডলিং: ৩ হাজার ৫৫২টি (বিগত বছরের চেয়ে ৩৫১টি বেশি)।
চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে (জুলাই-অক্টোবর) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ১৫.৫০ শতাংশ এবং জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে ১৯.৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ওই সময়ে এনসিটি ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭১ টিইইউএস কনটেইনার এবং ২৫৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে, যা বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ হাজার ৯১৯ টিইইউএস কনটেইনার ও ৪১টি জাহাজ বেশি।
চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের মোট সাধারণ পণ্য আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার পরিবাহী পণ্যের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯৮ শতাংশ হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আসায় জাহাজের অপেক্ষার সময় (ওয়েটিং টাইম) কমে এসেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ৯ দিন, অক্টোবর মাসে ১৮ দিন এবং নভেম্বর মাসে ১৯ দিন জাহাজের অপেক্ষার সময় শূন্য ছিল। বর্তমানে বন্দরে আসা জাহাজ অন এভারেজ বার্থ (Average Berth) পাচ্ছে। এতে:
আমদানি-রপ্তানিকারকরা দ্রুত মালামাল ডেলিভারি নিতে পারছেন।
রপ্তানিযোগ্য মালামাল যথাসময়ে জাহাজে তোলা যাচ্ছে।
ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং সামগ্রিক রপ্তানিতে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে যন্ত্রপাতি সংযোজন, ইয়ার্ড ক্যাপাসিটির সম্প্রসারণ, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম ও বন্দর ব্যবহারকারীদের অব্যাহত সহযোগিতার কারণে এই ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মায়ের্স্ক শিপিং লাইনের একটি প্রতিনিধিদল সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে এসে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমানোসহ অপারেশনাল পারফরম্যান্সের উন্নতি এবং সেবার মানের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।












